বাতাসে বিষ! নিশ্বাসে অসহ্য জ্বালা, শহরের বাতাসে, মানুষের নিঃশ্বাসে কেবলই দুষণ চলা-ফেরা করে। উড়ন্ত ট্রেন ছুটির দিনের আনন্দকে করেছে গতিময়, দিয়েছে যান্ত্রিকতা; কাগজের ওপর ফুল আর পাতা দিয়ে বানানো শুভেচ্ছা কার্ড রূপ নিয়েছে স্মার্ট কার্ডের। হে প্রকৃতি আমাদের এভাবে নিঃস্ব করে দিয়ো না। পূর্ব-পুরুষের উপস্থিতি আমাদের অনুভব করতে দাও; ত না’হলে অস্থিত্বহীনতার অনুভূতি কেমনভাবে অনুভূত হবে? তোমাদের উৎসব পার্বণের উল্লাস আর হাততালিতে পথশিশুদের কান্না ভেসে আসে। ভেসে আসা সে কান্নাকে পুজি করে বিভিন্ন ভাবে পুঁজির বিকাশ হয় আরো। আগুনের মতো গ্রীস্মকাল, পলাতক বৈশাখী ঝড়ের কথ...
চুপ থাকা সুবোধ তুমি!! এখন নানা পথ নানা মত পরস্পরের বিরুদ্ধে; সুবোধ তুমি চুপচাপ থাকো। ওরা সবাই যার যার মতো সব কিছুই দখল করে নেবে তুমি শুধু চেয়ে রবে একাকী দলহীনভাবে। এখনতো সময় দলাদলির, সুবোধের দল নেই কোনো; তুমি তো কেবল বহুজনের খাবলাখাবলির শিকার। শীতের পাখিরা তবু পরিযায়ী হয়, তোমার জন্য খোলা নেই কোনো পথ, অবারিত নেই কোন পথ, আকাশ বা জলে। এখনও সন্ধ্যা নামলে তুমি পোস্টারে ভরে দাও জনতার বুকের দেয়াল; এখনও জ্যোস্না রাতে তুমি চেয়ে থাকো অগণিত নক্ষত্রের পানে এলিয়েনের বার্তার আশায়। অথবা বিলুপ্তপ্রায় কলা বাদুরের মতো ডানা ঝাপটাও তুমি; অথবা এখনও দু’চারটা বিচরণশীল মেঠো ইঁদু...
একটা লক্ষ্মী পেঁচা হঠাৎ এসে দেখা দেয় কার্তিকের কুয়াসাহীন সকালে; তখন ভোরের শিশির আর গাছের পাতায় সূর্যালোকে ঝিকিমিকি করে না। পাশের গ্রামে ওয়াজে আসা হুজুরের মতে, এসকলই আলামত কেয়ামতের; যখন সব কিছু দুনিয়াতে অন্যরকম হয়ে যায়। দাবানল, খরা, অতিবৃষ্টি, মানুষের মন ও হ্নদয়ে আঁকে বেসামাল অস্থির ছবি। শিশু শ্রেণীর ছোট্ট শিশুসব রঙিন পেন্সিলে ফুল,পাখি, প্রকৃতি আঁকতে ভুলে গিয়ে আঁকতে বসে ঝড় আর জলোচ্ছাসের ছবি। তবে কি এবার থেকে নবান্ন উৎসব, পিঠাপুলি বানের জলে যাবে ভেসে? হায়! মেঠো ইঁদুরের দল সব ছুটে চলে কোন সে হ্যামিলনের পাগল করা বাঁশির সুরে। ব্যাঙ আর সাপ অস্থিত্ব রক্ষায় ভুলে যা...
উৎসর্গ করলাম নিজেকে তোমার জন্যে তোমার নিরাপত্তার জন্যে আমি সত্য বলে যাবো, তোমার ভবিষ্যৎ স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে; মিথ্যাকে কোনভাবেই বিনিময় করবো না। তবুও অনিয়ন্ত্রিত আঙুলের কারসাজিগুলো; হয়তোবা আমার হাত থামাতে পারবে না। আমি জানি আমার কণ্ঠ নিঃসৃত বাক্যসমূহ আজকের দিনে অচল; কিন্তু তোমার আগামীর জন্যে তা উৎসর্গ করে গেলাম।।
সব উচ্ছ্বাস এক সময় থেমে যাবে, তুমি তখন আবার মেতে উঠবে নতুন কিছু নিয়ে। জী্বন কেবল উচ্ছ্বাস আর উৎকণ্ঠায় ভরা কত বার নানা রঙর উচ্ছ্বাস, উৎকণ্ঠা, আকুলতা তুমি পার হয়ে এলে। এ যেন প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউয়ের মতো; অথবা, আতলান্টিক মহাসাগরের শীতলতম ঢেউয়ের আহাজারি; কিন্তু সব উচ্ছ্বাস, উৎকণ্ঠা, আকুলতা, আকাঙ্খা থেমে যাবার পরে তোমার অবস্থান কোথায় হবে? নতুন ভেসে উঠা পদ্মা সেতুতে? না’কি কিছুটা পুরাতন যমুনা সেতুর ফাটল ধরা অংশে??
