বাতওয়ালের ক্ষুধা
সপ্তম পরিচ্ছেদ
আবারো সেই আলোটা পারভেজকে তাড়া কওে ফিরছে। মারভিলা গ্রহের বাসিন্দাদেও নির্দেশ মোতাবেক কম্পিউটার কী-বোর্ডেও এম অক্ষর প্রেস করার পর প্রয়োজনীয় যে নির্দেশ এসেছে তাতে ধাতস্থ হতে না হতেই এই নতুন জ্বালাতন শুরু হয়েছে।
মারভিলাগ্রহের নির্দেশ মোতাবেক একটি বিশেষ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নে এখন থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে শোভা ও পারভেজকে বারমুডায় বিম ডাউন করা হবে। শোভা আর পারভেজ ঠিক করলো পুরো বিষয়টি আর কাউকে জানানো হবে না। তবে পারভেজ তার দৈনিক পত্রিকার অফিসে একটি ইমেল বার্তা পাঠলো। তাতে বিস্তারিত সব তথ্যই দেওয়া হল। পত্রিকার সম্পাদকের উদ্দেশ্যে ফাইলে প্রবেশের পাসওয়ার্ড লিখে পারভেজ যখন নিজের বাসায় ফিরলো তখন রাত প্রায় ১০টা বাজে।
আকাশের দিকে তাকিয়ে বারান্দায় বসে কফি খেতে খেতে পারভেজ ভাবতে লাগলো জীবনে চরম বিস্ময়কর কিছু ঘটতে চলেছে হয়তো। পারভেজ যদি জানতো তার চেয়েও চরম বিস্মকর ব্যাপার তার জন্য অপেক্ষা করছে তা’হলে সে এমনটা ভাবতো না। বারান্দার রেলিং এর ওপর হঠাৎ লাল আলোর বিচিত্র খেলা শুরু হয়ে গেল। সেই সঙ্গে শত শত ছবি যেন ভেসে উঠতে লাগলো পারভেজের দু’চোখের সামনে। হঠাৎ লাল আলোগুলো স্থিও হয়ে যায় এক জায়গায় এসে। চারদিক কেমন যেন চুপচাপ। পারভেজকে হতবাক করে দিয়ে স্থিও হয়ে যাওয়া লাল আলোর মাঝে যেন শত সহস্র বিন্দুর সৃষ্টি হল। মিলি সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিন্দুগুলো যেন আকৃতি নিতে শুরু করলো।
পারভেজের সামনে এখন ডে প্রাণীটি দৃশ্যমান তার সারা অবয়ব জুড়ে লালের সমারোহ। কী অদ্ভুত! কী অপূর্ব! প্রাণীটি মানুষের মতই দু’হাত আর দু’পা বিশিষ্ট। তবে তার চোখদুটি যেন মাথা থেকে প্রায় বেরিয়ে এসেছে। এবার প্রাণীটি পারভেজকে চরমভাবে হতবাক করে দিয়ে একটি জলজ্যান্ত মানুষের রূপ নিল। পারভেজ পরম বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই প্রাণীটি অবিকল মানুষের মতো কথা বলে উঠলো, কেমন আছো পারভেজ? এতদিনে তোমাকে স্থির অবস্থায় পাওয়া গেল। কত চেষ্টা করেছি তোমাকে এক জায়গায় নিতে। পারিনি। লাল আলো দেখলেই তুমি ছটফট শুরু করে দিতে। আজ তোমাকে প্রথম বসা অবস্থায় পেয়ে স্বরূপে দেখা দিলাম।
কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভবপর হল? পারভেজের হতবাক করা প্রশ্নের জবাবে মানুষরূপী প্রাণীটি হেসে উঠে বললো, খুব সহজ ব্যাপার আমাদেও দেহের ফোটন কণিকাকে রি-স্ট্রাকচারিং করার ফলে এর জেনেটিক গঠন মিলি সেকে-েরও কম সময়ে পাল্টে গেছে। এখন এভাবেই তোমাদের পৃথিবীতে ঘুওে বেড়াতে পারবো।
কিন্তু তুমি কে? কোথা থেকেই বা আসছো? বিভ্্রান্ত পারভেজের প্রশ্নে প্রাণীটি বিন্দুমাত্র উত্তেজিত না হয়ে জবাব দিল, ভালকান থেকে।
ভালকান থেকে!
হ্যাঁ ভালকান থেকে। তোমাদেও সৌরজগতেরই একটি গ্রহের বাসিন্দা আমরা। তবে আমাদেও সিভিলাইজেশন তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি সফিস্টিকেটেড। এটি একটি বিশাল ব্যাপার । কারণ তোমরা ধারণাও করতে পারবে না যে বিজ্ঞানে আমরা তোমাদের চেয়ে কতখানি এগিয়ে গিয়েছি। মহাশূণ্য, সময়, ব্ল্যাক হোল এসব বিষয়ে তোমরা এখনও কিছুই জানো না। তোমাদের পৃথিবীর সময় অনুসারে এখন ২০২১ সাল। তোমরাযতখানি প্রকৌশলগত উন্নতি এখন পর্যন্ত করেছ আমরা তা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছি। বিভিন্ন গ্যালাক্রির উন্নত সভ্যতার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, রেষারেষি এবং সংঘর্ষ সবই ঘটছে। যাক সেসব কথা। পরে আরো আলাপ হবে। আপাতত কফি বানাও। তুমিও খাও। আমাকেও এক কাপ দাও। (চলবে)